সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে বাসার কাছে আসতেই মনটা খারাপ হয়ে যায় জীবনের।দরজায় তালা ঝুলছে।তার মানে বউ আজকেও কোথাও বেরিয়ে গেছে। পকেটে থাকা চাবি দিয়ে তালাটা খুলে ঘরে ঢোকে জীবন। ইদানীং প্রায়ই এমন করছে ঝুমা। হুটহাট বেরিয়ে যায়। জীবনকে ফোনেও জানায় না কিছু। ছেলেটাকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। তবে ছেলের সাথে কথা বলে জেনেছে ছেলেকে মায়ের সঙ্গে নেয় না,মামার বাসায় রেখে যায়।ছেলেটা এখন বড় হয়েছে। ক্লাস নাইনে পড়ে। এভাবে তো ওর পড়ালেখার ভীষণ ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। ওকে তো বাসায় রেখে গেলে পারে!
অফিস থেকে ফিরে খালি ঘরে থাকতে জীবনের একটুও ভালো লাগে না। আজকেও তার মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়।হট ক্যারিয়ারটা টেবিলের ওপর রেখে বেডরুমে ঢুকে পোশাক চেঞ্জ করে সে।তারপর ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে রান্নাঘরে ঢুকে চুলায় গরম জল চাপায়।খুব ক্লান্ত লাগছে, এক কাপ চা খেতে হবে।চাপাতার পটটা নামিয়ে চাপাতা নিতে গিয়েই দেখে পটের ভেতর একটা ভাঁজ করা কাগজ।খুব অবাক হয় জীবন। পটের ভেতর ভাঁজ করা কাগজ এলো কোত্থেকে? কৌতূহলবশত কাগজের ভাঁজটা খোলে।ঝুমার হাতের লেখা।ভ্রু কুঁচকে যায় তার।ঝুমা কাকে চিঠি লিখেছে? চিঠিটা এখানে কেন? গরমজল সিদ্ধ হতে থাকে। চিঠিটা খুলে ফেলে সে। তাকেই সম্বোধন করে লেখা।চোখ বুলোয় জীবন। ঝুমা লিখেছে-
প্রিয় জীবন,জানি অফিস থেকে ফিরে তোমাকে চা খেতেই হবে।তাই চিঠিটা এখানেই রাখলাম।এভাবে তোমাকে কিছু না জানিয়ে চলে যাবার জন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমি আসলে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম।এরকম মধ্যবিত্তের টানাটানির জীবন আমি চাইনি। আমি বিলাসিতা চাই। আনন্দ চাই।চাই জীবনকে উপভোগ করতে।তাই আমার বন্ধু টিপুর সাথে চলে গেলাম। আমরা এদেশে থাকছি না,তাই খুঁজলেও পাবে না।আজ দুপুর ২.৩০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট বাংলাদেশ ছাড়বে।ভালো থেকো তুমি।
ইতি
ঝুমা
সাথে সাথে জীবনের মাথায় যেন তড়িৎতরঙ্গ খেলে যায়।তার ছেলে! তার ছেলে কোথায়! চুলাটা নিভিয়ে ছুটে বেরিয়ে যায় সে।গন্তব্য ঝুমার বাবার বাসা। পথে দুচারজনের সাথে দেখা হয়।তাকে এমন হন্তদন্ত হয়ে ছুটতে দেখে কেউ কেউ জানতে চায় কী হয়েছে। একটা জরুরী কাজ আছে বলে সে এড়িয়ে যায়।
ঝুমার বাবার বাসায় পৌঁছে জীবন জোরে জোরে কলিং বেল টিপতে থাকে।দরজা খুলে দেয় ওর ছেলে। ওর শ্বশুর শাশুড়িও পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সবাই একদম স্বাভাবিক। ওদেরকে দেখে এতক্ষণে জীবনের মনে হয় ঝুমা বুঝি তার সাথে মজা করেছে।আসলে সে কোথাও যায়নি,চিঠি পেয়ে জীবন কেমন করে তা হয়তো দেখতে চেয়েছে।সে ছেলেকে জিজ্ঞেস করে,
-তোমার মা কই?
– মা তো এখনো ফেরেনি। ছেলে জানায়।
জীবনের শাশুড়ি বলেন,
-তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন বাবা? ভেতরে আসো। ও আজকে এত দেরি করছে কেন বুঝলাম না!
জীবনের বুক কেঁপে ওঠে।তাহলে কি চিঠির কথাই সত্য? ঝুমা কখনো তো এতক্ষণ পর্যন্ত বাইরে থাকে না। হয়তো বাসায় যায় না,কিন্তু বাবার বাসাতেই থাকে। সে কি উনাদের বলবে চিঠির কথা? কিন্তু ছেলের সামনে কী করে এসব কথা বলবে! জীবন ছেলেকে বলে,
-তুমি আমার জন্য এক গ্লাস জল নিয়ে আসো।
ছেলে চলে যেতেই জীবন ঘরের ভেতরে ঢোকে।হঠাৎ তার মনে পড়ে সে তার শ্বশুর শাশুড়িকে প্রণাম করেনি। সে পা ছুঁয়ে দুজনকে প্রণাম করে,তারপর একটু ভেবে শ্বশুরের হাতে চিঠিটা তুলে দেয়। শ্বশুর অবাক হয়ে ভাঁজ করা কাগজটা নেয়। চশমা তাঁর চোখেই ছিল।তিনি দ্রুত চোখ বুলান চিঠিতে,মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে যায় তাঁর মুখ। কিছু না বলে তিনি কাগজটা বাড়িয়ে দেন তাঁর স্ত্রীর দিকে। মাথা নিচু করে তিনি গিয়ে বসেন সোফাতে। তারপর বিষণ্ন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন মেঝের দিকে। লজ্জায়,ঘৃণায় তিনি যেন জীবনের দিকে তাকানোর ক্ষমতা হারিয়েছেন।
শাশুড়ি কাগজটা নিয়ে চোখ বুলোতেই ঘরে প্রবেশ করে নীল অর্থাৎ জীবনের ছেলে,তার সাথে তার মামী।মামীর হাতে ট্রে। ট্রেতে নাস্তা,চা,জল। নীল জলের গ্লাসটা বাড়িয়ে দেয় বাবার হাতে। ঢক ঢক করে জল গেলে জীবন। তার শাশুড়ি ততক্ষণে চিঠিটাতে নজর বুলিয়ে মুঠোর ভেতর পুরে সোফাতে বসে পড়েছেন।তিনিও তাকিয়ে আছেন মেঝের দিকে। নীলের মামী খুব চালাক। ঘরে ঢুকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন কিছুটা অস্বাভাবিকতা। তিনজন মানুষের বিবর্ণ মুখ তাঁকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে।প্রথমে তিনি জীবনকে কুশল জিজ্ঞেস করে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে সরাসরিই প্রশ্ন করেন,
– কী হয়েছে মা? আপনাদের সবাইকে এমন লাগছে কেন? কোনো সমস্যা?
তিনজনের কেউ এ প্রশ্নের উত্তর দেয় না। তাই বলে থেমে যাবার পাত্রী নীলের মামী নন।তিনি এবার শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বলেন,
-বাবা,আপনাকে এমন দেখাচ্ছে কেন? সমস্যাটা কী?
নীলের দাদুর হেঁট মাথা সোজা হয় না। অগত্যা জীবনই মুখ খোলে,বলে,
-বৌদি,ঝুমা তো এখনো ফিরলো না।তাঁর খোঁজে এসেছিলাম। কোথায় গেছে আপনি কিছু জানেন?
নীলের মামী এবার যেন একটা ইস্যু পান,বলেন,
-ওর কথা কী বলবো তোমাকে! ও কি চালের নিচে থাকার মেয়ে? ওর বন্ধু টিপু না দীপু কে একটা এসেছে স্পেন থেকে,তার সাথেই প্রতিদিন বেরিয়ে যায়।তুমি তো কোনো খবরও রাখো না। সে আমাকেও কিছু বলেনি।ওর টেলিফোনের কথা বলা নিয়ে আমি বুঝে নিয়েছি।
জীবন খুব অস্বস্তি বোধ করে নীলের সামনে এসব কথা হচ্ছে দেখে। সে অসহায়ভাবে ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে,
-নীল,তুমি ভেতরে যাও।আমরা বড়রা এখানে কথা বলছি।
অনিচ্ছাসত্ত্বেও নীল উঠে যায়। এ বয়সটা কৌতূহলের বয়স। সে বুঝতে পেরেছে এখানে নিশ্চয় কোনো সিরিয়াস বিষয়ের আলোচনা হবে। নীল চলে গেলে হঠাৎ নীলের মামীর চোখ পড়ে শাশুড়ির হাতের কাগজটার দিকে। শ্বশুর শাশুড়ির চেহারা, জীবনের বিপর্যস্ত বেশভূষা সব মিলিয়ে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কাগজটির প্রতি কৌতূহলী করে তোলে। তিনি শাশুড়ির দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন,
-দেখি মা,আপনার হাতে ওটা কী কাগজ?
শাশুড়ি কাগজটাকে মুঠোর ভেতর ঢুকিয়ে ফেলতে চান,তারপর বলেন,
-ওটা এমনি একটা কাগজ।এখানে পড়ে ছিল। তাই তুলে নিলাম।
এ কথায় সন্তুষ্ট হওয়ার মানুষ নীলের মামী নন। তিনি একটু হেসে বলেন,
-এজন্যই তো বলছি কাগজটা আমাকে দিতে।দেখি, কোনো জরুরী কাগজ কিনা!
শাশুড়ি কাগজটা আরও মুঠোর ভেতর আঁকড়ে ধরেন,তারপর চেঁচিয়ে বলেন,
-আরে না না,এটা তোমার কাগজ না।
এবার মুখ খোলেন শ্বশুর। শান্ত স্বরে বলেন,
-কাগজ লুকালে কি তুমি সত্য লুকাতে পারবে?
ওকে কাগজটা দাও।

অনিচ্ছাসত্ত্বেও কাগজটা বৌমার হাতে তুলে দেন,তারপর ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।
চিঠিটাতে চোখ বুলিয়ে নীলের মামী জীবনের দিকে তাকিয়ে বলেন,
-আমি জানতাম এমনকিছু ঘটবে,কিন্তু তুমি তো সচেতন ছিলে না। এখন তোমার দাদাও বাসায় নেই।অফিসের কাজে ঢাকায় গেছে। আর থাকলেও কী করতো! ওরা তো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। আসলে স্বামী এত অসচেতন থাকলে বৌরা এমনই করে।
জীবন বোঝে না এখানে সচেতনতা বলতে কী বোঝাতে চাইছে নীলের মামী। সে কি চাকরি করবে,নাকি ঘরে বসে বউকে পাহারা দেবে। ক্ষুধায়, ক্লান্তিতে ওর মাথাটা ভীষণ ধরে গিয়েছিল। নীলের মামীর কথাগুলো তাকে হুলের মতো বিঁধছে। এ মুহূর্তে তার কী করণীয় সে বুঝে উঠতে পারছে না। ছোটবেলা থেকে তাকে সবাই নিরীহ বলেই জানে।সে কারো সাতেও নেই, পাঁচেও নেই। একটা বেসরকারি ফার্মে মোটামুটি গোছের একটা চাকরি করে।অন্য দশজন মধ্যবিত্তের মতোই ছিল তার সংসার। মাস শেষে মাঝে মাঝে হয়তো একটু টানাটানি হতো,কিন্তু তাই বলে কি কারো বউ চলে যায়! ঝুমার সব সাধ তো সে পূরণ করার চেষ্টা করতো। নিজের অনেক চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়ে সে ঝুমাকে সুখী দেখতে চাইতো। এটা ঠিক ঝুমার অনেক চাওয়া সে পূরণ করতে পারেনি, কিন্তু তার চেয়েও কম বেতন পেয়ে কতজন তো সুখে সংসার করছে।
আসলে চলে যাবার জন্য এটা ছিল ঝুমার একটা অজুহাত। প্রাণ উজাড় করে সে ঝুমাকে ভালোবাসতো,বউ বাচ্চা ছাড়া তার পৃথিবীতে আর কিছু ছিল না। এত ভালোবেসেও সে ঝুমাকে বাঁধতে পারলো না! কীভাবে থাকবে নীল মাকে ছাড়া? এ বয়সের একটা ছেলে বন্ধুদের কাছে মায়ের কথা কী বলবে? জীবনের মাথাটা কেমন ঝিম ঝিম করে। কী করবে সে এখন? খুব অসহায় লাগে নিজেকে।এ অসহায়তা যতটা না নিজের জন্য,তার চেয়ে বেশি নীলের জন্য।
-এখন আমি কী করবো আপনারা বলেন। নীলকে আমি কী বলবো আপনারা বলে দেন।
কথাটা বলে সে সবার দিকে একবার তাকায়।সবাই নীরব। সবার চোখ মেঝের দিকে।জীবনের দিকে তাকানোর মেরুদ- আজ যেন তাদের কারোই নেই।
নীলের দিদিমা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।চাপাস্বরে বলেন,
-এর চেয়ে রাস্তায় এক্সিডেন্ট করে মরে গেলে অনেক খুশি হতাম। ও মরলো না কেন? বুড়োকালে আমাদের মুখে এভাবে চুনকালি দিলো? ছেলেটার কথাও ভাবলো না? আমার মেয়ে হয়ে ও এত লোভী হলো কী করে?
নীলের দাদু হতাশার স্বরে বলেন,
-সব আমাদের কর্মফল।ওর মতো সন্তান জন্ম দেওয়াই আমাদের আজন্মের পাপ।এখন ভাবো নীলকে কী বলবো? কীভাবে সামলাবো?
জীবনের বুকটা হু হু করে ওঠে।এত বড় আঘাত নীল কীভাবে সইবে? এ সময় নীলের মামী বলে ওঠেন,
-নীলকে আমরা বলবো ওর মা একটা সুযোগ পেয়ে বিদেশ চলে গেছে। ও এসএসসি পাশ করলে ওকেও নিয়ে যাবে।
নীলের দাদু বলে,
-নীল কি অত ছোট যে এ কথাটা বিশ্বাস করবে? মানুষ এভাবে চুরি করে বিদেশ যায়?
নীলের দিদিমা বলেন,
-তাহলে বলি ওর মা এক্সিডেন্টে মারা গেছে।লাশ বিকৃত হয়ে গেছে বলে কাউকে দেখতে দিচ্ছে না। এটা বিশ্বাস করবে।
জীবন বলে,
-একটা মানুষ মারা গেলে তো নানা ফরমালিটিস থাকে। ওটা কী করবো?
নীলের দিদিমা বলেন,
-সব করবে।আজ থেকে ধরে নাও ও মরে গেছে।
নীলের দিদার প্রস্তাবটা খারাপ লাগে না জীবনের। একটু অভিনয় নাহয় করতে হবে নীলের সামনে, কিন্তু সে কিছু বলার আগেই ঘরে ঢোকে নীল।তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বলে,
– আমাকে মিথ্যে বলতে হবে না কাউকে। আমি বুঝে গেছি সব।মা আমাকে ফেলে চলে গেছে,তাই তো? অসুবিধা নেই,আমি বাবার সাথেই থাকবো। মা যদি আমাকে ছেড়ে থাকতে পারে,তবে আমিও মাকে ছাড়া থাকতে পারবো। এখন চলো বাবা,বাসায় চলো।
কথাটা বলে নীল বাবার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। জীবন নীলের দিকে তাকায়। ওর মুখটা ব্যথায় নীল হয়ে গেছে, কিন্তু চোখে মুখে কেমন কাঠিন্য। এমন মায়াবী ছেলেটাকে ফেলে কীভাবে থাকবে ঝুমা! নীল হাত বাড়িয়েই আছে বাবার দিকে।জীবনও উঠে দাঁড়ায়। হাত বাড়িয়ে নীলের হাতটা ধরে। তারপর নীলের মামীর দিকে তাকিয়ে বলে,
-দিন বৌদি,চিঠিটা দিন। ওর শেষ স্মৃতি হিসেবে আমার কাছে থাকুক।
নীলের মামী চিঠিটা দিয়ে দেয়। জীবন নীলকে নিয়ে ঘরের বাইরে পা বাড়ায়। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয়,জীবনটা কী অদ্ভুত! আজ সকালে ঝুমা যখন তাকে দুপুরের ভাত ক্যারিয়ারে ভরে দিচ্ছিল তখনো সে বুঝতে পারেনি এ দেওয়াই ঝুমার শেষ দেওয়া। গতকাল রাতে একই বিছানায় থেকেও বুঝতে পারেনি এটাই ছিল ঝুমার সাথে শেষ রাত।ঝুমা বার বার এপাশ ওপাশ করছিল,কিন্তু জীবন এত ক্লান্ত ছিল ঝুমার কাছে জানতে চায়নি ওর ঘুম আসছে না কেন? একবারের জন্যও ঝুমার পিঠে হাত রাখেনি,কিংবা একটিবারের জন্য বুকেও টেনে নেয়নি।হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চমকের মতো তার মস্তিষ্কে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।ঝুমা কি শুধু তার আর্থিক সীমাবদ্ধতার জন্যই তাকে ছেড়ে গেছে,নাকি আরও কোনো সীমাবদ্ধতা তার ছিল! আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ানোর জন্য হন্য হয়ে ঘুরতে গিয়ে সেকি প্রচ-ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল? খুব কি গুটিয়ে গিয়েছিল সে? ঝুমার প্রতি কি তাহলে সে অবিচার করে ফেলেছিল? তাই কি ঝুমা তাকে ছেড়ে গেলো? জীবন হাঁটতে থাকে। প্রশ্নগুলোর উত্তর সে মেলাতে পারে না। বরং প্রশ্নগুলো মাথার ভেতর কেমন জট পাকাতে থাকে।