সুকুমার বড়ুয়া (১৯৩৮-) আমার প্রিয় ছড়াসাহিত্যিক। তাঁর ছড়া পড়ে আমি মুগ্ধ হই, আনন্দিত হই, উচ্ছ্বসিত হই। প্রায় প্রতিটি ছড়াই আকর্ষণীয় ও স্বতঃস্ফূর্ত। একবার পড়লে বারবার পড়ার স্পৃহা জাগে, মুখস্ত হয়ে যায় এবং মাঝে মাঝে মগজের ভেতর গুন গুন করে ফেরে ছড়ার বিভিন্ন পংক্তি। ফলে আড্ডায়, আসরে উপস্থাপিত হয় তাঁর বহু ছড়া।
বাংলাদেশের যে অল্প ক’জন লেখক শুধু ছড়াসাহিত্য চর্চা করে বর্তমানে খ্যাতির শিখরে অবস্থান করছেন তাঁদের মধ্যে সুকুমার বড়ুয়া অন্যতম। বিষয়ের অভিনবত্বে এবং প্রকাশভঙ্গির সাবলীলতায় তিনি এখন অপ্রতিদ্বন্ধী ছড়াসাহিত্যিক।
সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার প্রধান আকর্ষণীয় দিক ‘ছন্দ’। ছন্দের ঝংকারে তাঁর ছড়ার প্রতিটি শব্দ যেন নেচে ওঠে। সুরের মোহজালে আটকে পড়া ছড়াগুলো শোনামাত্রই তুষ্ট হয় আমাদের কান, উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে মন। মিটে যায় কৌতূহল ও কল্পনার উৎসুকতার দাবি। তাঁর ছড়ার মন্ত্রমুগ্ধ ছন্দে- চপল নৃত্যে-নিটোল সুরে দোলায়িত হয় আমাদের মন। আমরা মাতাল হই তাঁর ছন্দে, নেচে উঠি তার ঝংকারে। আমরা আপ্লুত হই তাঁর বক্তব্যে, অভিভূত হই তার অভিনবত্বে।

টাকা বাবা টাকা ভাই
টাকা ছাড়া গতি নাই
টাকা বড় আপনার
আর সবই পর
ধর টাকা ধর।
——————
—————–
টাকা মান টাকা প্রান
টাকা মহা বলবান
টাকা ছাড়া মরলেও
পাবে না কবর
ধর টাকা ধর।
ইংরেজগণ বলে, ‘টাকা ঈশ্বর’
ধর টাকা ধর টাকা ধর।

এই ছড়াটিতে যেমন সুন্দর বক্তব্য বিদ্যমান, তেমনি আচে সুরের ব্যঞ্জনা। শুধু এই ছড়া নয়, সুকুমার বড়–য়ার প্রায় প্রতিটি ছড়াতেই আছে ধ্বনির মাধুর্যতা। অর্থ-গৌরবের সাথে ধ্বনি-সৌরভের সমন্বয় সাধনের ফলে বেরিয়ে আসে ছড়ার নিগূঢ় রহস্য।

তবে ছড়ার ছন্দের স্বতঃস্ফূর্ততাই মুখ্য, অর্থের গভীরতা নয়। সুরের সাবলীলতা যতটুকু প্রয়োজন, বুদ্ধির প্রতিভা ততটুকু নয়। কিন্তু সুকুমার বড়–য়ার ছড়াগুলো সব ধরনের বৈশিষ্ট্যে অনন্য। তাঁর স্বতন্ত্রবোধ তাঁকে বিশিষ্টতা দান করেছে। তাঁর ছড়ার সহজিয়া রূপ তাঁকে ‘প্রিয় লেখক’ ‘প্রিয় ছড়াসাহিত্যিক’র আসনে অধিষ্ঠিত করছে। তাঁর ছড়ার বক্তব্য এমনই যে, সহজে আকর্ষণ করে পাঠককে। তাঁর ছড়ার ভাষা ও ছন্দের ব্যবহার এমন যে, সহজেই সহজভাবে গ্রহণ করা যায়; মুখস্ত হয়ে যায়। তাই ক্ষণে ক্ষণে মাথার ভেতর আলোড়ন তোলে ছড়ার এক একটি মধুর ও চমৎকার স্তবক।

ধুত্তুরি ছাই!
যার কাছে যাই
সব মুখে এক কথা-নাই নাই নাই।
—————————
—————————
টিভিতে নাটক হবে ভারি অদ্ভুত
মাঝখানে হুট করে নাই বিদ্যুত
আছে নাকি মোমবাতি আর দেশলাই
এখানেও এক কথা—-নাই নাই নাই।

তারের উপর বসা শয়তান কাক
মাথাটাকে ঠিকভাবে করেছিল তাক,
হায় ছি ছি, কী যে করি পানি কোথা পাই
বলে বসে এক কথা—নাই নাই নাই। এ ছড়াটিতে একটা সাধারণ বক্তব্যকে অসাধারণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুন্দর উপস্থাপনা নির্ভুল ছন্দের দ্যোতনায় ছড়াটি পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম। এ রকম বহু ছড়া উদাহরণ দেয়া যায়।

২.
সুকুমার বড়ুয়া এক অসাধারণ প্রতিভা। অনেকের ভাষায় ‘ঈশ্বর প্রদত্ত’। আসলে ‘লেখালেখি’ জিনিসটাই এমন, ইচ্ছে করলেই এ অঙ্গনে সফল হওয়া যায় না। চেষ্টায় হয়তো পাহাড়ে ওঠা সম্ভব, কিন্তু প্রতিভা না থাকলে শত চেষ্টা করেও লেখক হওয়া যায় না। তাই একজন লেখকের প্রয়োজন ‘কষ্ট করার মানসিকতা’ ও ‘প্রতিভা’ -দুটোই।

সুকুমার বড়ুয়ার আচরণ এতো সহজ এবং চলাফেরা এতো সাধারণ যে, তাঁকে দেখে মনে হয় না- তিনি কতো বড়ো প্রতিভাবান মানুষ। আমার মনে হয়, তিনি নিজেও জানেন না যে, তাঁর প্রতিভার ওজন কতটুকু। তিনি আমাদের ছড়া-সাহিত্যে একজন প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। লুৎফর রহমান রিটনের ভাষায়-‘সুকুমার বড়ুয়া নামটি আমাদের গৌরব। আমাদের অহংকার।’

৩.
সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার ছন্দ অদ্ভুত। ধ্বনির উপর রয়েছে তাঁর স্বচ্ছন্দ প্রভুত্ব। কিন্তু কোন্ ছন্দে তিনি স্বতঃস্ফূর্ত। স্বরবৃত্তে, মাত্রাবৃত্তে নাকি অক্ষরবৃত্তে? সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার একজন নিষ্ঠাবান পাঠক হিসেবে বলবো, তিনি এমন একজন ছড়াসাহিত্যিক, যাঁর মগজের মধ্যে আটকা পড়ে আছে তিন প্রধান ছন্দের রীতিনীতি বা ফর্মূলা। হাতের আঙ্গুলে মাত্রা গুণে তিনি লেখেন বলে মনে হয় না। তাঁর সচেতন কানই ছন্দের নির্দেশনা দেয়। ছন্দের ব্যাকরণ পড়ে ছন্দের কলাকৌশল আত্মস্থ করে যে তিনি ছড়া চর্চায় আসেন নি, এটা আমি নিশ্চিত। কিন্তু তিনি এমন এক প্রতিভা যা-ই লিখেন তাই হয়ে যায় অসাধারণ ও ছন্দোবদ্ধ। ছন্দের যে সব ফর্মূলা বা সূত্র ছন্দ-গবেষকরা আবিস্কার করেছেন, সে সব ফর্মূলা পুরোপুরি মানতে হবে- এমন কোনো কথাই নেই। ওইসব না মেনেও যদি কেউ তাঁর লেখায় সুর তুলতে সক্ষম হন, তাহলেও সেটা হবে গ্রহণযোগ্য। স্বরবৃত্ত ছন্দের নিয়মানুযায়ী , প্রতি পূর্ণ পর্বে সাধারণ চারমাত্রা থাকে। কিনতু এর ব্যতিক্রমও আছ্ েতিনমাত্রাতেও পূর্ণ পর্ব হয়। যখন দু’টো বদ্ধাক্ষর পাশাপাশি অবস্থান করে, তাহলে তিন মাত্রা দিয়ে পর্ব গঠন করতে হয়। যেমন:
বর আসবে বর,
ইষ্টিকুটুম বন্ধু জনে
বোঝাই বাড়িঘর।
এখানে ‘বর আসবে’পর্বে তিন মাত্রা। বর+আসবে। বর আস-বদ্ধাক্ষর দুটো পাশাপাশি বসায় তিন মাত্রা দিয়ে পর্বটা গঠন হয়েছে েকিন্তু কবি নজরুল স্বরবৃত্তের এই সুরটায় পরিবর্তন এনেছেন লিচুচোর কবিতার মধ্য দিয়ে। তিনি স্বরবৃত্তের চারমাত্রা পর্ব আ কখনো কখনো তিন মাত্রা পর্বের সুত্রের সীমাবদ্ধতা ভেঙে সৃষ্টি করেছেন নুতন চাল, নতুন সুর।
বাবুদের তালপুকুরে
হাবুদের ঢাল কুকুরে
সে কি বাস করে তাড়া
বরে থাম একটু দাঁড়া।
——————-
——————
এ ছন্দের তাল ৩+৪ মাত্রায়। স্বরবৃত্তের নির্দিষ্ট কাঠামো ভেঙে নজরুল উপস্থাপন করেছেন এই নতুন ধ্বনি। সেটি শুধু গ্রহণযোগ্যই হয়নি, পেয়েছে নতুন প্রাণ। তাই শক্তিশালী কবিরা সব সময় ছন্দ ভাঙতে চেষ্টা করেন, চেষ্টা করেন আঙ্গিকে-উপস্থাপনায়-ছন্দে নুতনত্ব আনতে। অর্থাৎ আমি বলতে চাই, তিন প্রচলিত ছন্দের নিয়ম-কানুন না মেনেও যদি নিজের লেখায় সুরের ঝংকার তোলা যায়, সেই সুরকে গ্রহণ করা যায় অবলীলায়। তবে সকলের পক্ষে তা সম্ভব নয়। ধ্বনির উপর যাঁর অসম্ভব দখল, তিনি হয়তো সক্ষম হতে পারেন।

সুকুমার বড়ুয়া সেই ক্ষমতাশালী বা শক্তিমান লেখকদের একজন। যাঁর অনেকগুলো ছড়াতে সেই ছন্দের নিরীক্ষা আছে। যদিও আমি জানি, তিনি সচেতনভাবে এই নিরীক্ষা-কাজ চালান নি।

এটা খাবে না ওটা খাবে না
লাট সায়েবের কুকুর ছানা।

এটি স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত। কিন্তু প্রথম দু’পর্বে ‘চার মাত্রা’র বদলে আছে ‘পাঁচ মাত্রা’। এক মাত্রা বেশি। কিন্তু বেশি হওয়ার পরেও কি ছড়াটির সুরের মধ্যে কোনো ব্যাঘাত ঘটেছে? না, ঘটেনি। এটি পড়ার সময় আমাদের কানে কোনো খটকা লাগে না, সুরের যে ব্যঞ্জনা—তারও কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

ফলে এ ছড়াকেও বলবো নিটোল সুরের ছড়া। এ রকম আরেকটি ছড়ার উদাহরণ দিই:
সুবজ বনের তোতা
খাঁচার ভেতর বন্দি হয়ে
ঠোঁট করেছে ভোঁতা।
দেখালে দেখে
শেখালে শেখে
শোনালে হবে শ্রোতা
এর কথা ওর কানে দিয়ে
গ-গোলের হোতা
সবুজ বনের তোতা।

এটিও স্বরবৃত্তে রচিত ছড়া। কিন্তু ‘দেখালে দেখে’ ‘শেখালে শেখে’ , ‘শোনালে হবে’ – এই তিনটি পর্বে এক মাত্রা করে বেশি আছে। {দে+খা+লে+দে+খে=৫মাত্রা, শে+খা+লে+শে+খে=৫ মাত্রা} একটা পর্বে নয়, পর পর তিনটি পর্বে মাত্রাধিক্য সত্ত্বেও সুরের কোনো ক্ষতি হয় নি।
হাতিয়ার গেদু মিয়া দেখে নেবে দুনিয়া
হলদিয়া সোনাদিয়া ঢাকা বেতবুনিয়া।
রমানিয়া বিলোনিয়া আর্মেনিয়া কেনিয়া
এস্তেনিয়া কাউনিয়া গিনি আলবেনিয়া।
পটিয়া কুতুবদিয়া ফেনী বারতাকিয়া
ইন্ডিয়া কম্বোডিয়া চেকোশ্লোভাকিয়া।
কাপাশিয়া নিকোশিয়া ককেশিয়া রাশিয়া
রোডেশিয়া গাউছিয়া ঘানা তিউনিশিয়া।
প্রিটোরিয়া ভিক্টোরিয়া সাটুরিয়া সিরিয়া
ইরিত্রিয়া গে-ারিয়া অস্ট্রিয়া কোরিয়া।
চকোরিয়া মাঞ্চুরিয়া মালি নাইজেরিয়া
তাতারিয়া ডুমুরিয়া জাভা সাইবেরিয়া।
জাম্বিয়া গাম্বিয়া কলম্বিয়া লিবিয়া
বলিভিয়া নামিবিয়া চিলি যুগোশ্লাভিয়া।
সোমালিয়া মঙ্গোলিয়া তেতুলিয়া ঘাটিয়া
যাবে চীন অস্ট্রেলিয়া পেরু লালমাটিয়া।
জমি দিয়া টাকা নিয়া সব ঠিক করিয়া
গেদু মিয়া নেয় সব ব্রিফকেস ভরিয়া।
সেজেগুজে যাচ্ছিল রিকশাটা ধরিয়া
হায় সব নিয়া গেল হাইজ্যাক করিয়া।

এই ছড়াটি কোন ছন্দে রচিত? স্বরবৃত্তে তো হতে পারে না (প্রতি পর্বে চারমাত্রা নেই)। মাত্রাবৃত্ত নাকি অক্ষরবৃত্ত? যদি হিসেবে ফেলি, তাহলে দেখা যাবে, এটি মাত্রাবৃত্তেও পড়ছে না, অক্ষরবৃত্তেও পড়ছে না। কারণ মাত্রাবৃত্তে চার মাত্রা পর্বের চাল ধরে এগোলে তৃতীয় লাইনে আর্মেনিয়ায় এসে হিসেব বেড়ে যায়, পরে এস্তোনিয়া, কম্বোডিয়া, কলম্বিয়া, ভিক্টোরিয়া, গে-ারিয়া ইত্যাদি পর্বেও দেখা যায় মাত্রাধিক্য।

অন্যদিকে অক্ষরবৃত্তে হচ্ছে না; কেন না ইন্ডিয়া, কাউনিয়া, জাম্বিয়া, গাম্বিয়াসহ বহু জায়গায় রয়েছে মাত্রাঘাটতি। তাহলে এই ছড়াটিকে ভুল ছড়াটিকে ভুল ছন্দের ছড়া কি বলা যাবে? না, প্রচলিত কোনো ছন্দের নিয়মকানুন পুঙ্খানুপুঙ্খ না মানা সত্ত্বেও এর ছন্দ-সুর-ধ্বনিতে রয়েছে অপূর্ব ব্যঞ্জনা। এগুলো সুকুমার বড়ুয়ার সহজ প্রাণের শ্রমের ফসল। বিশ্বের ‘ইয়া’যুক্ত অনেক কটি স্থান খুঁজে এনে সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে প্রয়োগ করেছেন তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত ছন্দ। ছন্দ তো আসলে ধ্বনি ও যতির সুশৃঙ্খল বিরতি ও গতি-এই আমাদের যাত্রা শুরু, এই থামলাম, এই যাত্রা, আবার থামালাম, আবার বিশ্রাম-এই তো ছন্দ (আব্দুল মান্নান সৈয়দ/ছন্দ)।

সুকুমার বড়ুয়া সব ছন্দে লেখেন, সব ছন্দে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ততা। ছন্দের সাথেই তাঁর বসবাস। দিনে রাতে আড্ডা আসবে তিনি খেলা করেন ছন্দ নিয়ে। তাই ছন্দের ইশকুলে কখনো শিক্ষার্থী হিসেবে না থাকলেও এখন আছেন অস্তিত্ব হয়ে।

সুকমার বড়ুয়া যুৎসই ও চমকদার অন্ত্যমিল প্রয়োগে একজন দক্ষ শিল্পী। অনুপ্রাস ও মধ্যমিলের বেলায়ও তিনি অনন্য।

শেয়াল নাকি লোভ করে না
পরের কোনো জিনিসটার
কী পরিচয় দিলো আহা
কি সততা কি নিষ্ঠার!
তাই সে হলো বনের মাঝে
এডুকেশন মিনিষ্টার।

জিনিসটার, কি নিষ্ঠার, মিনিস্টার- অন্ত্যমিল শুধু চমৎকারই নয়, অকল্পনীয়ও।

গরমা গরম! গরমা গরম
ছাপাখানার ফর্মা গরম,
বেতার টিভি খবর দিল
জাপান মিশর বর্মা গরম
এমন কথা শুনতে পেয়ে
বিণয়ভূষন শর্মা গরম।
এ ধরনের অন্ত্যমিলের জন্য তিনি আমাদের অনুকরণীয় শিল্পী।

রাস বিহারী দাসের নাতি
হাসপাতালে বাস করে
মাস পুরোলেই দেশে গিয়ে
খাস জমিতে চাষ করে।
পাশ করেনি পরীক্ষাতে
পয়সা কড়ি নাশ করে
হাতের কাছে কাউকে পেলে
চড়া মেরে দেয় ঠাস করে।
শুধু অন্ত্যমিল নয়, মধ্যমিল ও অনুপ্রাসের জন্যও ছড়াটি অসাধারণ।

৪.
সুকুমার বড়ুয়া বাংলাদেশের অনেক তরুণের আদর্শের ‘ছড়াশিল্পী’। তাঁর সহজাত প্রকাশ-নৈপুণ্যে, শব্দ-কুশলতায় ও সুরের ব্যঞ্জনায় তাঁর ছড়া যেমন হয়ে উঠেছে হৃদয়গ্রাহী, তেমনি তিনি হয়ে উঠেছেন ‘প্রিয়’।

আমি তাঁর ছড়ার একজন দরদী পাঠক। আমি অভিভূত হই তাঁর বক্তব্যে, উল্লসিত হই তাঁর উপাস্থপানায় এবং নেচে উঠি তাঁর ছন্দের ঝংকারে। আমি তালে তালে মাতাল হই, উচ্ছ্বসিত হই এবং আলোড়িত হই।